• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

ছেলের ‘খুনিকে’ ক্ষমা : মহত্বের বিরল দৃষ্টান্ত

cha_51158চট্টগ্রাম: ছেলের ‘খুনিকে’ ক্ষমা করে দিয়ে মহত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শোকার্ত এক পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামে। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর এমএম আলী সড়কে শিল্পকলা একাডেমির সামনে বেপরোয়া গতির একটি প্রাডো জিপ কেড়ে নেয় ঢাকার আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহিন ফাইয়াজ হকের প্রাণ।
এসময় পবিত্র হজ পালন করতে জাহিনের পিতা জহিরুল হক ও মা ছিলেন সৌদি আরবের মক্কায়। গত বুধবার দেশে ফিরে আসেন তারা। এদিন ছেলের জানাজার আগে তিনি ছেলের ‘খুনিকে’ ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানান স্বজনদের। বলেন, ‘কাবা শরীফে আমার ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে ওই ছেলেটারে মাফ করে দিয়েছি। আমারটা তো চলে গেল। এখন ওই ছেলের জীবন শেষ করতে চাই না।’
পুলিশ জিহানের ঘাতক আবদুর রহমান জামিকে গ্রেফতার করলেও গত বৃহস্পতিবার সে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তার বাবার নাম এম এ মনসুর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
জাহিনের বাবা জহিরুল হক বলেন ‘ঘটনার দিন চারবার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। নিরাপদে হজ করতে পেরেছি কিনা, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছি কিনা জিজ্ঞাসা করেছিল সে।’
এক স্বজন জানান, পরিবারের সাথে ঈদ করতে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছিল জিহান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ফের ঢাকা চলে যাওয়ার কথা ছিল তার।
ছয় মাস আগে আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন জিহান। মায়ের অনেক আদরের সন্তান জিহান সবসময় মাকেই খুঁজত। বাবা-মা হজে চলে যাওয়ায় বিষন্ন ছিল তার মন। তাই ঘটনার দিন কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় খালার বাসায় গিয়েছিলেন তিনি। কারণ ঢাকা ফেরার বিমানের টিকিট ছিল খালার বাসায়। টিকিট নিয়ে খালার বাসা থেকে ফিরছিলেন। পথে প্রাডো জিপ প্রাণ কেড়ে নিল তার।
জহিরুলের দুই ছেলের মধ্যে শান্তশিষ্ট স্বভাবের জিহান ছিলেন বড়। নিজেদের ৩৫ লাখ টাকা দামের গাড়ি থাকলেও হজে যাওয়ার সময় বাবা নিষেধ করায় সেই গাড়ি নিয়ে বের হননি জিহান। কখনও মা-বাবার অবাধ্য হননি তিনি। বিনয়ী ও সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল জিহানকে হারিয়ে শুধু পরিবার নয়, রাহাত্তারপুল এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ